নাজিয়া আফরিন
চলো বন্ধু সিলেটে যাই বন্যা দেখে আসি,
জলের দৃশ্য দেখতে আমি বড্ড ভালোবাসি।
ঘরগুলো সব জলের নিচে মাঠ-ঘাট সব ডুবে,
কত্ত মজা হবে বন্ধু মরছি আমি ভেবে।
সেথায় গিয়ে হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে
দুজন মিলে সকল কিছু দেখব ঘুরে ঘুরে।
মাচার ওপর ঐ কিশোরী বসে খোলা চুলে
মাঝে মাঝে বাতাস এলে আঁচলখানি দোলে।
কী আনন্দ দিলের মধ্যে পেলাম কাব্যের ভাষা,
জলের খেলা দেখতে এসে পুরলো মনের আশা।
ডেকচির মধ্যে ভাসছে শিশু কেমন করে হাসে
সেও বুঝি আমার মতন জলকে ভালোবাসে।
ঘরের থেকে কাথা-বালিশ যাচ্ছে জলে ভেসে,
খুব উপভোগ করছে দুজন আনন্দে আর হেসে।
একটি মানুষ সাতরে যাচ্ছে মাথায় তিনটে ছাগল,
দুই বন্ধু ভাবছে লোকটা ভীষণ একটা পাগল।
বানের এই আপদ দিনে নিজের কথা ছেড়ে
নিরিহ এক প্রাণী নিয়ে কেউ কি চিন্তা করে?
আরে ব্যাটা জান নিয়ে যা, ছাগল থাকুক পড়ে
কী-ই বা হবে ছাগল তিনটে নাহয় গেলো মরে।
বড্ড লোভী শালারা সব তাইতো এরা মরে,
নানান রকম দুর্যোগে আর বন্যা, প্লাবন ঝড়ে।
বাসায় গিয়ে আজই একটা ডায়রি লিখব ভাবছি,
এসব ছবি মনের মধ্যে খুব যতনে আঁকছি।
একটা বালক সাতরে যাচ্ছে বয়স বারো হবে,
তার সাথে চলো একটা সেলফি নিতে হবে।
এই ভেবে ছেলেটাকে না'য়ে তুলে নেয়,
বিস্কুটের প্যাকেট তাকে হাত বাড়িয়ে দেয়।
চেহারাটা মলিন করে দুঃখী ভাবটা এনে,
আলতো করে ক্লিক করে দেয় স্ন্যাপ বাটনে ফোনে।
বড়শী নিয়ে মাছ ধরি চল ঘরের চালে বসে,
মাছ নিয়ে ফিরব বাড়ি দুজন দিনের শেষে।
বড়শী নিয়ে বসে চালে স্মিত হাসি ঠোটে,
অপর বন্ধু নৌকা নিয়ে খাবার কিনতে ছোটে।
পাঁচ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে খাবার নিয়ে আসে,
ফিরে এসে বন্ধু খুঁজে পায় না আশে-পাশে।
সবখানেতেই লুকোচুরি ভাল্লাগে না আর
চুপটি করে বসে আছে মুখটা করে ভার।
ঘন্টা দুয়েক পরে তার মেজাজ ভীষণ চটে,
এবার যদি পাইরে তোকে দেখবি মজা বটে।
এমনিভাবে দিন চলে যায় সন্ধ্যা যে ঘনায়
বন্ধুর দেখা পায় না যে সে করে কী উপায়।
খানিক পরেই হঠাৎ কী যে জলের ওপর ভাসে
চোখ দুটো হয় ছানাবড়া তাহার কাছে এসে।
প্রাণের প্রিয় বন্ধু তাহার ভাসে বানের জলে,
কেমন করে মনকে বুঝায় কোন বাক্য বলে।
জলের দৃশ্য দেখতে এসে জলেই ডুবে মরে,
এমন
কপাল হয় না যেন আর কারো প'রে।











0 Comments