প্রশ্ন ১। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার লেখক কে?


উত্তর: হুমায়ূন আহমেদ।


প্রশ্ন ২। যোগাযোগের মাধ্যম কয়টি?


উত্তর: তিনটি।


প্রশ্ন ৩। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময়ে একই সঙ্গে কয়টি মাধ্যম ব্যবহার করা হয়?


উত্তর: দুটি।


প্রশ্ন ৪। কাগজ, কলম, বই, পত্রিকা, ব্ল‍্যাকবোর্ড কোন ধরনের যোগাযোগের উপকরণ?


উত্তর: লিখিত।


প্রশ্ন ৫। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম কত সালে?


উত্তর: ১৯৪৮।


প্রশ্ন ৬। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু কত সালে?


উত্তর: ২০১২।


প্রশ্ন ৭। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?


উত্তর: 'আগুনের পরশমণি'।


প্রশ্ন ৮। হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাসের নাম লেখ।


উত্তর: 'নন্দিত নরকে'।


প্রশ্ন ৯। কোন বিশেষ লিখিত মাধ্যমে লেখকের সঙ্গে পাঠকের যোগাযোগ ঘটে?


উত্তর: 'সাহিত্য'।


প্রশ্ন ১০। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় কয়টার সময় কার্ফ্যু শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে?


উত্তর: ছয়টায়।


প্রশ্ন ১১। সরকারের নির্দেশে কখন কেউ বাড়ির বাইরে বের হয় না? উত্তর: কার্ফ্যুর সময়।


প্রশ্ন ১২। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় উল্লিখিত অন্ধকার দেখে সবাই কী ভাবছে?


প্রশ্ন ১৩। "আপনি কি মতিন সাহেবের বাড়ি খুঁজছেন?"- কে বলল


উত্তর: ইদ্রিস মিয়া।


প্রশ্ন ১৪। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় কে মতিন সাহেবের বাড়ি খুঁজছে?


উত্তর: বদিউল আলম।


প্রশ্ন ১৫। মতিন সাহেবের বাড়ির গেটের কাছে কোন গাছের কথা বর্ণিত আছে?


উত্তর: 'নাইরকল'।


প্রশ্ন ১৬। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার বদিউল আলম কত দিন পর ঢাকা শহরে প্রথম ঢুকছে?


উত্তর: তিন মাস।


প্রশ্ন ১৭। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার বদিউল আলম কতজনকে সঙ্গে নিয়ে শহরে ঢুকছে?


উত্তর: সাতজন।


প্রশ্ন ১৮। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় কত সালের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে?


উত্তর: ১৯৭১।


প্রশ্ন ১৯। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার সুরমা কে?


উত্তর: মতিন সাহেবের স্ত্রী।


প্রশ্ন ২০। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার মতিন সাহেবের দুই মেয়ের নাম কী?


উত্তর: রাত্রি ও অপালা।


প্রশ্ন ২১। "আমরা তো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাঘের পেটের ভেতর আছি।”- কার উক্তি?


উত্তর: মতিন সাহেবের।


প্রশ্ন ২২। "সুরমা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। কী রকম উদ্ধত ভঙ্গিতে সে কথা বলছে।”- কে?


উত্তর: বদিউল আলম।


প্রশ্ন ২৩। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার বদিউল আলমের বাবা-মা কোথায় থাকেন?


উত্তর: ঢাকা শহরে।


প্রশ্ন ১। "সবকিছু আগে থেকে ঠিকঠাক করা। মাঝখান থেকে হুট করে কিছু বদলানো যাবে না।" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?


উত্তর: "সবকিছু আগে থেকেই ঠিকঠাক করা। মাঝখান থেকে ছুট করে কিছু বদলানো যাবে না।"- প্রদত্ত কথাটি হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনা থেকে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম মতিন সাহেবের বাড়িতে কিছুদিন থাকতে চাইলে তার -স্ত্রী সুরমা বদিউলকে পরদিন সকালে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। সুরমার এই কথার জবাবে বদিউল জানায় তার সঙ্গে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা এই বাড়িতে যোগাযোগ করবে। যা আগে থেকে ঠিক করা আছে। তাই হঠাৎ করে এই বাড়ি থেকে চলে গেলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। সেইজন্য বদিউল প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।


প্রশ্ন ২। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার বক্তব্যবিষয় লেখ।


উত্তর : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার সেনাদের তান্ডব এ দেশবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তখন, ঢাকার অবস্থা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা অশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁদের কৌশলী ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। আর তাঁদেরকে সহায়তা করেছে স্বাধীনতাপ্রত্যাশী প্রতিটি বাঙালি। সেই চিত্রই এই সাহিত্য-নমুনায় উঠে এসেছে।


প্রশ্ন ৩। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। উত্তর : 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা। ১৯৭১ সালের এই মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই সময়টা এ দেশের মানুষের জন্য একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতি ছিল। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন, হত্যা, গুম খুনে জর্জরিত ছিল আমাদের এই মাতৃভূমি। কারফিউতে অধিকাংশ সময়ই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করত। এর মধ্যেই এ দেশের মুক্তিকামী সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিকল্পিত যুদ্ধ চালিয়ে যান হানাদারদের বিরুদ্ধে। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় এই বিষয়গুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।


এরকম আরো প্রশ্নের উত্তর পেতে ক্লিক করুন


প্রশ্ন ৪। চায়ের দোকানদার ইদ্রিস কেন বদিউলকে নিজে থেকে ঠিকানা বলে দিল?


উত্তর: বদিউলের হাঁটার ভঙ্গি দেখে ইদ্রিসের কাছে মনে হলো স্টে বাসার নম্বর পড়তে পড়তে আসছে। ইদ্রিসের দোকানের সামনে এসে, থমকে দাঁড়ালে ইদ্রিস বুঝতে পারে সে নিশ্চয় মতিন সাহেবের বাড়ি খুঁজছে। তাই সে নিজে থেকে বদিউলকে ঠিকানা বলে দিল।


প্রশ্ন ৫। ইদ্রিস কেন প্রায় দৌড়াচ্ছিল?


উত্তর : 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কারফিউ শুরু হওয়ার কথা। এমতাবস্থায় ইদ্রিস তার দোকান বন্ধ করতে প্রস্তুত হয়। দোকানের তালা লাগানোর সময়ে বদিউল আলমকে দেখে বুঝতে পারে সে মতিন সাহেবের বাড়ি খুঁজছে। তাকে মতিন সাহেবের ঠিকানা দিয়ে সে হনহন করে হাঁটতে শুরু করে। কারণ কারফিউ শুরু হওয়ার আগেই তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই সে প্রায় দৌড়াচ্ছিল।


প্রশ্ন ৬। মতিন সাহেবের উক্তি "বাঘের পেটের ভেতর আছি”- এর অর্থ কী? উত্তর: "বাঘের পেটের ভেতর আছি"- এই কথাটি দ্বারা মতিন সাহেব যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের দুর্বিষহ পরিস্থিতিকে বুঝিয়েছেন।


তৎকালীন শাসক-শোষকশ্রেণি এই দেশটাকে তখন এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে, মনে হচ্ছিল পুরো দেশটাকে তারা গিলে ফেলেছে। ৮ দেশের এই করুণ অবস্থা বোঝাতেই মতিন সাহেব উক্তিটি করেন।


প্রশ্ন ৭। সুরমা কেন বদিউলকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললেন?


উত্তর: বদিউল একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা তাদের বাড়িতে আছে এই কথা হানাদার সেনারা জানতে পারলে যেকোনো সময় তাদের বাড়িতে হামলা চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে তার দুই মেয়ের ক্ষতি হতে পারে। এই কথা ভেবে সুরমা তাদের বাড়ি থেকে বদিউলকে চলে যেতে বললেন।


প্রশ্ন ৮। বদিউলের দুর্বিনীত আচরণ দেখেও সুরমার কেন ভালো লেগেছিল বলে তুমি মনে কর?


উত্তর: সুরমা তার দুই মেয়ের ক্ষতির আশঙ্কার কথা ভেবে বদিউলকে তাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু বদিউল যেতে রাজি হয়নি। কেননা অন্য মুক্তিযোদ্ধারা তাকে এই ঠিকানায় এসে খুঁজবে। দেশের জন্য বদিউলের এই অনুরাগ দেখে তার দুর্বিনীত আচরণও সুরমার ভালো লেগেছিল।


প্রশ্ন: ৯ যোগাযোগের মাধ্যম বলতে কী বোঝায়? আলোচনা কর।


উত্তর : 'যোগাযোগের মাধ্যম' বলতে যোগাযোেগ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করা হয়, সেগুলোকেই বোঝায়। যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো বিভিন্ন ধরনের। যেমন-


ক. প্রত্যক্ষ মাধ্যম : প্রত্যক্ষভাবে গলার স্বর, কথার সুর, ইশারা, অঙ্গভঙ্গি, তাকানোর ধরন প্রভৃতি যোগাযোগের প্রত্যক্ষ মাধ্যম।


খ. লিখিত মাধ্যম: চিঠিপত্র, সাহিত্য, নোটিশ, বিজ্ঞাপন, পোস্টার, প্রতিবেদন, পত্রপত্রিকা প্রভৃতি যোগাযোগের লিখিত মাধ্যম।


গ. যান্ত্রিক মাধ্যম: এসএমএস, ই-মেইল, অনলাইন মিটিং, অডিও- ভিডিও কল, সিনেমা প্রভৃতি যোগাযোগের যান্ত্রিক মাধ্যম।


প্রশ্ন ১০ :  যোগাযোগের উপকরণ বলতে কী বোঝ? আলোচনা কর।


উত্তর : যেসব উপাদানের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় সেগুলো যোগাযোগের উপকরণ। যেমন-


ক. প্রত্যক্ষ উপকরণ : সরাসরি কথা বলার সময়ে বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বাষ্প্রত্যঙ্গ, কান, হাত, আঙুল, চোখ, ইশারা, সংকেত প্রভৃতি প্রত্যক্ষ উপকরণ।


খ. লিখিত উপকরণ: লিখে ভাব প্রকাশে বা লিখিত যোগাযোগে ব্যবহৃত কাগজ, কলম, পেনসিল, বই, পত্রিকা, দেয়াল পত্রিকা ব্ল‍্যাকবোর্ড, হোয়াইটবোর্ড, ছবি ইত্যাদি লিখিত উপকরণ।


গ. যান্ত্রিক উপকরণ : যোগাযোগে ব্যবহৃত যান্ত্রিক প্রযুক্তির, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাইক্রোফোন, লাউডস্পিকার, মাইক, হেডফোন, রেডিও, টেলিভিশন, অডিও রেকর্ডার, ক্যামেরা, স্ক্যানার প্রভৃতি যান্ত্রিক উপকরণ।


প্রশ্ন ১১ :  "পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীর কঠিন মুঠির ভেতরে একটি অসহায় শহর।” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আলোচনা কর।


উত্তর : একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র দেশ শাসকগোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। রাজধানী ঢাকার অবস্থা ছিল আরও করুণ। কারফিউ জারি করে শহরবাসীকে কঠিন শাসনের বেড়াজালে বন্দি করে রাখত তারা। বাঙালির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করত। অত্যাচার, নির্যাতন আর পাশবিকতায় শহরবাসীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। বন্দি জীবনে তারা হাঁপিয়ে উঠেছিল। রাতের আঁধারের মতোই তাদের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল। শত্রুসেনাদের কারণে শহরটি তখন খুবই অসহায় হয়ে পড়েছিল। স্বাভাবিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল।


প্রশ্ন ১২ :  "যে ছেলেটিকে এতক্ষণ লাজুক এবং বিনীত মনে হচ্ছিল, এখন তাকে দুর্বিনীত অভদ্র একটি ছেলের মতো লাগছে।”- কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।


উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বদিউল আলম গেরিলা অপারেশন চালানোর দায়িত্ব নিয়ে ঢাকা শহরে আসে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মতিন সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাকে পেয়ে মতিন সাহেব আনন্দে উচ্ছ্বসিত হলেও তার স্ত্রী সুরমা এতে খুশি হতে পারেন না। কেননা দেশের এমন পরিস্থিতিতে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া তাদের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বদিউলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু বদিউল এক সপ্তাহের আগে এই বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ার কথা বলে দেয়। কেননা বদিউলের সহযোদ্ধারা এই বাড়ির ঠিকানা অনুযায়ী তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তার এই স্পষ্ট জবাবে তাকে সুরমার কাছে দুর্বিনীত ও অভদ্র মনে হয়েছে। অথচ এই বাড়িতে প্রবেশের পর থেকে বদিউলকে সুরমা লাজুক ও বিনীত মনে করেছিল। দেশমাতৃকার এই 'বীর সন্তান দেশকে মুক্ত করার স্বার্থে এমন উদ্ধত হয়ে উঠেছিল।


প্রশ্ন ১৩: "আজকাল সবাই অন্ধকারকে ভয় পায়।"- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর


উত্তর: পরাধীনতার দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে না পেরে আজকাল সবাই অন্ধকারকে ভয় পায়।


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালিরা তৎকালীন শাসকবর্গের শৃঙ্খলে বন্দি জীবন কাটিয়েছে। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে থেকেছে। যেহেতু শাসনক্ষমতা ছিল তাদের হাতে, সেহেতু দেশকে নিয়ন্ত্রণ করেছে পাকিস্তানিরা। তারা শহরে কারফিউ জারি করেছে। সন্ধ্যা ছয়টায় কারফিউ শুরু। প্রকৃতিতে অন্ধকার নামার সাথে সাথে কারফিউ শুরু হয়ে যায়। স্মানুষের জীবনও সেই অন্ধকারের সাথে মিশে যায়। তারা তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িতে অবস্থান নেয়। তাদের জীবন থেকে এই অন্ধকার যেন আর ফুরায় না। তাই আজকাল সবাই অন্ধকারকে ভয় পায়।


প্রশ্ন ১৪: "দীর্ঘ দিবস এবং দীর্ঘ রজনী।"- কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।


উত্তর: একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দেশের মানুষের কঠিন সময় অতিবাহিত করার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে।


মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাকার অবস্থা ছিল আরও বিভীষিকাময়। হানাদার সেনাদের নিয়মের বেড়াজালে এবং তাদের অমানবিক কার্যকলাপে শহরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তাদের স্বাভাবিক জীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। বন্দি জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছিল তারা। বিরূপ পরিস্থিতিতে যন্ত্রণাময় জীবন কাটাতে কাটাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল নগরবাসী। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে সময় যেন স্থবির হয়ে পড়েছিল। দিন ও রাত তখন অনেক দীর্ঘ মনে হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই যন্ত্রণাময় জীবন যেন কাটতেই চাইছিল না।


প্রশ্ন ১৫: বদিউল আলমকে পেয়ে মতিন সাহেবের এত আনন্দ হচ্ছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।


উত্তর : বদিউল আলম মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাকে পেয়ে মতিন সাহেবের এত আনন্দ হচ্ছিল।


বদিউল আলম একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। শহরে গেরিলা অপারেশন চালানোর দায়িত্ব পড়েছে তার ওপর। সাতজনের একটি ছোটো দল নিয়ে সে শহরে ঢুকেছে। এই শহরেরই বাসিন্দা মতিন সাহেবের বাড়িতে এসে উঠেছে। সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিত। দেশকে হানাদারমুক্ত করতে এভাবেই সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। কেউ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, কেউ আবার পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে। মতিন সাহেব মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে পরোক্ষভাবে তাকে অপারেশনে সাহায্য করেছেন। এই মহৎ কাজে অংশ নিতে পেরে মতিন | সাহেব আবেগাপ্লুত। তাই তার এত আনন্দ হচ্ছিল।


প্রশ্ন ১৬ নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।


আফসীনদের ক্লাসে শিক্ষক জিনাতুনুন্নাহার তিন্নি নির্দেশ দিলেন, যারা প্রারবে তারা একটি কবিতা লিখে নিয়ে আসবে এবং আগামী ক্লাসে তা উপস্থাপন করবে। আর যারা নিজে কবিতা লিখতে পারবে না তাদেরও ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। তারা তাদের জানা পছন্দমতো কবিতা আবৃত্তি করবে। পরদিন আফসীন জিহান তার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতাটি আবৃত্তি করল। তার আবৃত্তি শুনে শিক্ষকসহ সকল সহপাঠী অভিভূত হয়ে গেল।


(ক) অনুচ্ছেদে যে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে সেই মাধ্যমটি কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার ব্যবহার করা হয় এবং এই মাধ্যমের যোগাযোগে ■ কী কী উপকরণ ব্যবহৃত হয়?৷    8


(খ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ্য অংশটুকু পড়ে তোমার কোন কোন যোগাযোগের কথা মনে আসে এবং তা কেন? উল্লেখ্য অংশে যদি একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়ে থাকে তাহলে অপর মাধ্যমটি কী?        8



১৬নং প্রশ্নের উত্তর:ক


অনুচ্ছেদে প্রধানত প্রত্যক্ষ মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে। এই মাধ্যমটি আমরা সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করি। প্রত্যক্ষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক পক্ষ বলে এবং অন্য পক্ষ শোনে। বস্তা এবং শ্রোতার মধ্যে সরাসরি যে যোগাযোগ হয় সেটিই যোগযোগের প্রত্যক্ষ মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে গলার স্বর, কথার সুর, ইশারা, তাকানোর ভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি দিক গুরুত্বপূর্ণ। এই মাধ্যমে যোগাযোগের সময় অর্থাৎ সরাসরি কথা বলার সময় বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের সময় নিম্নোক্ত উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয়- বাকপ্রত্যঙ্গ, কান, হাত, আঙুল, চোখ, ইশারা, সংকেত ইত্যাদি।


১৬ নং প্রশ্নের উত্তর:খ

এ অনুচ্ছেদে উল্লেখ্য অংশটুকু পড়ে আমার প্রত্যক্ষ মাধ্যমে যোগাযোগ এবং সাহিত্য মাধ্যমে যোগাযোগের কথা মনে আসে। কেননা, এখানে একই সঙ্গে একাধিক মাধ্যমের যোগাযোগ হয়েছে। প্রথমত, কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে ক্লাসে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সাহিত্য মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে।


এখানে প্রত্যক্ষ ও সাহিত্য মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাহিত্য হলো যোগাযোগের একটি বিশেষ ধরনের মাধ্যম। এটি লিখিত যোগাযোগের অন্তর্গত। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে লেখকের সঙ্গে পাঠকের যোগাযোগ ঘটে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে লেখা ও পড়ার কাজটিই মুখ্য। এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে পাঠককে অবহিত করানো। এই যোগাযোগে লেখক নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাচেতনা ও অভিজ্ঞতা পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। এই যোগাযোগের প্রধান উপকরণ হলো কাগজ ও কলম। লেখক লেখার সময় কাগজ ও কলম ব্যবহার করেন এবং বই ছাপাও হয় কাগজে।


প্রশ্ন ১৭ নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।


স্বস্তিকা, ফাতিমা, মৌলিমা, স্নেহা, ফাইজাসহ কয়েক বন্ধু কয়েকদিন পড়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে রিহার্সেল দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে ওদের পানি পিপাসা পাওয়ার বিদ্যালয়ের পানির ফিল্টারের কাছে গেল। গিয়ে দেখে পানির ফিল্টারটি নষ্ট হয়ে আছে। ফাতিমা আর স্নেহার বোতলে অল্প পানি ছিল, সেটা সবাই একটু একটু করে ভাগ করে খেল। এরপর সবাই মিলে আলোচনা করে দেখল এত বড় বিদ্যালয়ে এত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র ফিল্টার পানির কল অপ্রতুল। তাই মৌলিমা বলল, চল আমরা সমস্যা দূর করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ফাতিমা বলল, চল আমরা শ্রেণি শিক্ষিকা হোসনে আরা আপার সাথে আগে আলাপ করি। তারপর তার কথা অনুযায়ী কাজ করি। সবাই হোসনে আরা আপার কাছে গেলে তিনি সব শুনলেন, এরপর বললেন, তোমরা একজন সবার পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্র লেখ প্রধান শিক্ষক বরাবর। আমি নিজেও তাঁর সাথে কথা বলব এই বিষয়ে।


ক) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:


১. শ্রেণি শিক্ষিকা এখানে কোন মাধ্যমে


যোগাযোগের কথা বলেছেন?


২. এই যোগাযোগে কী কী উপকরণ


লাগবে?


৩. এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী?


৪. এই ধরনের যোগাযোগের আরও কতিপয় উদাহরণ দাও।


(খ) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যোগাযোগ ছাড়া যোগাযোগের আর কী কী মাধ্যম সম্পর্কে তুমি জান? সেগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।                                                                                                             8


২নং প্রশ্নের উত্তর:


অনুচ্ছেদ পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো:


প্রশ্ন- শ্রেণি শিক্ষিকা এখানে কোন মাধ্যমে যোগাযোগের কথা বলেছেন?


উত্তর- শ্রেণি শিক্ষিকা এখানে আবেদনপত্র অর্থাৎ লিখিত মাধ্যমে যোগাযোগের কথা বলেছেন।


প্রশ্ন- এই যোগাযোগে কী কী উপকরণ লাগবে?


উত্তর- এই যোগাযোগে কাগজ ও কলম লাগবে।


প্রশ্ন- এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী?


উত্তর- এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পানীয় জলের সংকট নিরসন।


প্রশ্ন- এই  ধরনের যোগাযোগের আরও কতিপয় উদাহরণ দাও।


এই ধরনের যোগাযোগের আরও কতিপয় উদাহরণ হলো চিঠি, সাহিত্য, নোটিশ, ব্যানার, পোস্টার, সাইনবোর্ড, প্রতিবেদন, অ্যাসাইনমেন্ট, পত্রপত্রিকা ইত্যাদি।


উত্তর- যা অনুচ্ছেদে উল্লিখিত যোগাযোগ অর্থাৎ লিখিত যোগাযোগ ছাড়া যোগাযোগের আরও দুটি মাধ্যম সম্পর্কে আমি জানি। সেগুলো হলো:


১. প্রত্যক্ষ মাধ্যম ও ২. যান্ত্রিক মাধ্যম।


১. প্রত্যক্ষ মাধ্যম: যে মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করা হয় সেটিই প্রত্যক্ষ মাধ্যম। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক পক্ষ বলে, অন্য পক্ষ শোনে। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ যোগাযোগ পারস্পরিক হয়, মুখোমুখি হয়। এক্ষেত্রে গলার স্বর, কথার সুর, ইশারা, অঙ্গভঙ্গি, তাকানোর ধরন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। এই যোগাযোগে বাক্সত্যঙ্গ, কান, হাত, আঙ্গুল, চোখ, ইশারা, সংকেত ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।


২. যান্ত্রিক মাধ্যম: যান্ত্রিক মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। এই ধরনের যোগাযোগের নমুনা হলো- এসএমএস, ই-মেইল, অনলাইন মিটিং, অডিও-ভিডিও কল, সিনেমা ইত্যাদি। এই মাধ্যমে যোগাযোগ হয় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাইক্রোফোন, লাউডস্পিকার, মাইক, হেডফোন, রেডিও, রেকর্ডার, ক্যামেরা, স্ক্যানার ইত্যাদির সাহায্যে।


প্রশ্ন ১৮ নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।


নাবিহা উচ্চ শিক্ষার্থে জাপানে গিয়েছে। একমাত্র মেয়ে দূর দেশে চলে যাওয়ায় নাবিহার মা তিথির ভীষণ কষ্ট হয়। মায়ের এই কষ্ট নাবিহা বুঝতে পারে। তাই প্রায় প্রতিদিনই সে ল্যাব থেকে ফিরে মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে। মেয়ের মুখটা দেখে মায়ের প্রাণ জুড়ায়।


(ক) উল্লিখিত ঘটনায় কোন মাধ্যমের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে? যোগাযোগের এই মাধ্যমটি সম্পর্কে যা জান তা লেখ।

(খ) উল্লেখ্য ঘটনায় যে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে সেই মাধ্যমে কি তুমি কখনো যোগাযোগ করেছ? যদি করে থাকো তবে অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।


১৮ নং প্রশ্নের উত্তর:


উল্লিখিত ঘটনায় যান্ত্রিক মাধ্যমের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।


যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যমের মধ্যে যান্ত্রিক মাধ্যমটি অন্যতম এবং বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত। যে যোগাযোগে যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার হয় সেটাকে যান্ত্রিক মাধ্যমে যোগাযোগ বলা হয়। এই ধরনের যোগাযোগের উপকরণ বা মাধ্যম হলো- মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাইক্রোফোন, লাউডস্পিকার, মাইক, হেডফোন, রেডিও, টেলিভিশন, অডিও রেকর্ডার, ক্যামেরা, স্ক্যানার। এই ধরনের

যোগাযোগের নমুনা হলো- এসএমএস, ই-মেইল, অনলাইন মিটিং, অডিও-ভিডিও কল, সিনেমা ইত্যাদি। এই সময়ে যান্ত্রিক মাধ্যমে যোগাযোগ বহুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সহজলভ্য হয়েছে, জীবনযাপনকে সহজ করেছে।

 উল্লেখ্য ঘটনায় যে মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে সেই মাধ্যম তথা যান্ত্রিক মাধ্যমে আমি অনেকবার অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগ করেছি। যেমন- যান্ত্রিক মাধ্যমে আমি আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভিডিও কলে' কথা বলেছি, আমি টিভিতে কার্টুন, সিনেমা দেখেছি, মোবাইলে বন্ধুদের এসএমএস করেছি এবং অনলাইনে ক্লাস করেছি।


আমার মনে আছে করোনার সময় আমরা স্কুলে যেতে পারতাম না। তখন আমরা অনলাইনে ক্লাস করতাম। খুব সাবধানে এবং আতঙ্কে বাসায় থাকতে হতো। অবশেষে স্কুল থেকে সবাইকে অনলাইনে যুক্ত করা হলো। সকল বন্ধুর মুখ দেখে মনটা ভরে গেল। আমাদের বীথিকা মিস খুব ভালো। তিনি আমাদের বন্দিদশায় মনের অবস্থা বুঝতেন। তাই তিনি নির্দেশ দিলেন অনলাইন ক্লাসের সময় সবাই স্কুল ড্রেস পরে ক্লাস করবে। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে স্কুল ড্রেস পরে যখন ক্লাসে বসতাম তখন সত্যি অন্য রকম মজা হতো। এভাবে যান্ত্রিক যোগাযোগও আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আনন্দ নিয়ে আসত।