প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, নতুন কারিকুলামে তোমাদের প্রশ্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তোমরা অনেকটা ধুয়াশার মধ্যে আছো। এবার সরকার কর্তৃক নতুন নির্দেশনা মোতাবেক তোমাদের প্রশ্ন পদ্ধতি অনুসরণে তোমাদের অনুশীলন করার জন্য কিছু নমুনা প্রশ্ন এবং সেই সঙ্গে উত্তরও দেয়া হলো। যাতে তোমরা সহজে অনুশীলন করতে পারো। 



বার্ষিক পরীক্ষা-২০২৪
নমুনা প্রশ্ন-০১ 
শ্রেণি- নবম
বিষয়- বাংলা 

নৈর্ব্যক্তিক অংশ : মান-২৫

  নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: বহুনির্বাচনি অভীক্ষার সঠিক/সর্বোৎকৃষ্ট উত্তরটি খাতায় লেখ (১-১৫) এবং এক শব্দে/এক বাক্যে উত্তর লেখ (১৬-২৫)। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।]

 

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : (সঠিক উত্তরটি খাতায় লেখ) ১ × ১৫ = ১৫

 

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১ ও ২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও। জুলাই বিপ্লবের সময় ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ ছিল তটস্থ। অপশক্তির দল যে ঘৃণ্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ড চালায় তা ছিল সত্যিই ভীতিকর। এ সময় দোকানিরা দোকান খুলতে অনেক ভয় পেত। যদিওবা খুলত পুলিশের ভয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিত।

 

১. উদ্দীপকের দোকানিদের আচরণের সঙ্গে 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

(ক) বদিউল আলম

(খ) মতিন সাহেব

(গ) সুরমা

(ঘ) ইদ্রিস মিয়া

 

২. সাদৃশ্য চরিত্রটির দোকান বন্ধ করে দৌড়ানোর কারণ-

i. মিলিটারি দেখেছে

ii. কারফিউয়ের সময় হয়েছে

iii. ছয়টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছাতে হবে

নিচের কোনটি ঠিক?

(ক) i ও ii

(খ) i ও iii

 (গ) ii ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

 

৩. 'অ্যা' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?

(ক) সম্মুখ

(খ) বিবৃত

(গ) সংবৃত

(ঘ) পশ্চাৎ

 

8. হাবিবুর রহমান কতটি লেবু গাছ লাগিয়েছেন?

(ক) ১০০টি

(খ) ১৫০টি

(গ) ২০০টি

(ঘ) ২১০টি

 

৫. ঝড়ে পড়া আহত পাখিটি ধীরে শব্দশ্রেণির ব্যবহার করা হয়েছে- ধীরে সুস্থ হয়ে উঠল। বাক্যে যে

i. বিশেষণ

ii. বিশেষ্য

iii. ক্রিয়াবিশেষণ

 

নিচের কোনটি ঠিক?

(খ) i ও iii

(গ) ii ও iii

(ঘ) i, ii ও iii

 

৬. বিবরণমূলক রচনার কয়টি অংশ থাকে?

(ক) দুটি

(খ) একটি

(গ) তিনটি

(ঘ) চারটি

 

৭. নিচের কোনটি গোলাম মোস্তফার রচিত বই নয়?

(ক) খোশরোজ

(খ) রক্তকরবী

(গ) বিশ্বনবি

(ঘ) বনি আদম

 

৮. 'অলিখিত উপাখ্যান' কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

(ক) উত্তর পুরুষ

(খ) রক্তের অক্ষর

(গ) অলিখিত উপাখ্যান

(ঘ) বং থেকে বাংলা

 

৯. 'সভ্যতার সংকট' কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

(ক) মানবতন্ত্র

(খ) মাটির পৃথিবী

(গ) নির্বাচিত প্রবন্ধ

(ঘ) রাঙা প্রভাত

 

১০. 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় ভূমিহীন প্রজা কে?

(ক) দাসী

(খ) মালী

(গ) দেবী

(ঘ) উপেন

 

১১. 'ফেরা' গল্পের আলেফ কোথায় গিয়েছিল?

(ক) ভারতে

(খ) দিনাজপুরে

(গ) বাণিজ্যে

(ঘ) নড়াইলে

 

১২. 'প্রত্যুপকার' গল্পের কথকের সর্বাপেক্ষা প্রিয়স্থান কোনটি?

(ক) জেদ্দা

(খ) কলকাতা

(গ) ডেমাস্কাস

(ঘ) মুকশুদপুর

 

১৩. 'বিলেতে সাড়ে সাতশো দিন' আবদুল হাইয়ের কী জাতীয় গ্রন্থ?

(ক) নাটক

(খ) উপন্যাস

(গ) ভ্রমণকাহিনি

(ঘ) ছোটোগল্প

 

১৪. শীতকালে আমাদের দেশে কী ধান হয়?

(ক) আউশ ধান

(খ) আমন ধান

(গ) বোরো ধান

(ঘ) বাওয়া আমন ধান

 

১৫. 'প্যান্টোমাইম' শব্দের অর্থ কী?

(ক) মূকাভিনয়

(খ) পৌরসভা

(গ) শিল্প

(ঘ) বরাদ্দকৃত খাদ্যপণ্য

  নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

এককথায় উত্তর দাও : (সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে) ১ × ১০ = ১০

 

১৬। যোগাযোগের মাধ্যম কয়টি?

১৭। 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনায় কে মতিন সাহেবের বাড়ি খুঁজছে?

১৮। সংবৃত স্বরধ্বনি কোনগুলো?

১৯। কার বড়ো-জোর মরার মতো ঠাঁই আছে?

২০। 'জুতা' শব্দের কথ্য রূপ কী?

২১। 'তোর জন্যি মরিনি, তোর জন্যি বাঁচে আছি বাপ।'- কে, কাকে বলছে?

২২। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

২৩। খলিফা কেমন শাসক ছিলেন?

২৪। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা কোন লেখা প্রয়োগ করি?

২৫। প্রায়োগিক লেখায় কীসের প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়?

 

রচনামূলক অংশ: মান-৭৫

 

[ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। একই প্রশ্নের উত্তর সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয়।।

সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন : (সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে)  ২ x ১০ = ২০

 

১। "সবকিছু আগে থেকে ঠিকঠাক করা। মাঝখান থেকে হুট করে কিছু বদলানো যাবে না।"- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

২। 'উ' ধ্বনির বৈশিষ্ট্য লেখ।

৩। 'ফেরা' গল্পের লেখক সম্পর্কে লেখ।

৪। সাধু রীতি ও প্রমিত রীতির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

৫। সংবাদ প্রতিবেদন কী?

৬। লেখক মুহম্মদ আবদুল হাই ইংরেজ জাতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন? বর্ণনা কর।

৭। 'আত্মস্মৃতি' রচনার বক্তব্যবিষয় লেখ।

৮। 'বাংলা ভাষা : সংকট ও সম্ভাবনা' রচনার বক্তব্যবিষয় লেখ।

৯ । 'কিশলয়ের জন্ম মৃত্যু' রচনার বক্তব্যবিষয় কী?

১০। 'সাহিত্য-জগৎ' কবিতার বক্তব্যবিষয় লেখ।

 

রচনামূলক প্রশ্ন (দৃশ্যপটবিহীন)

 

৫টি থেকে যেকোনো ৩টি প্রশ্নের উত্তর দাও:  ৫ x ৩ = ১৫

 

১১। যোগাযোগের মাধ্যম বলতে কী বোঝায়? আলোচনা কর।

১২। "তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে"- ব্যাখ্যা কর।

১৩। "সেখানে বেজে ওঠে উপনিবেশবাদী মানুষের কণ্ঠস্বর।"- চরণটি ব্যাখ্যা কর।

১৪। বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

১৫।শব্দালংকার কাকে বলে? আলোচনা কর।

  নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

রচনামূলক প্রশ্ন (দৃশ্যপটনির্ভর) ৮× ৫ = ৪০-

৭টি থেকে যেকোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

 

১৬। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

 

বাংলা ভাষার ধ্বনিসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে এক শ্রেণির ধ্বনি আছে যেগুলো অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হয়। এসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান, ঠোঁটের আকৃতির উপর নির্ভর করে নানা ধরনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সকল শব্দের মধ্যেই এসব ধ্বনির উচ্চারণ অপরিহার্য।

 

(ক) অনুচ্ছেদে যে ধ্বনির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বাংলা ভাষার সেই ধ্বনিগুলো লেখ।

(খ) অনুচ্ছেদে নির্দেশিত ধ্বনির যেকোনো তিনটির বৈশিষ্ট্য লেখ।

  নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

১৭। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

 

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আমাদের গর্ব। আয়তাকার এই পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০: ৬। জমিনের গাঢ় সবুজ বর্ণের মধ্যে একটি লাল বৃত্ত অঙ্কিত। লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ পতাকাটির দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ। পতাকার সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, আর বৃত্তের লাল রং উদীয়মান লাল সূর্য ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। জাতীয় পতাকা অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন জাতীয় সম্পদ। দেশে-বিদেশে আমাদের জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে সগৌরবে ঘোষণা করে এই পতাকা। লেখা লেখ তোমার প্রিয় শিক্ষক বিষয়ে।

 

(ক) অনুচ্ছেদের লেখাটিকে তুমি কোন ধরনের লেখা হিসেবে গণ্য করবে? এ ধরনের লেখা সম্পর্কে তুমি কী জান? বিস্তারিত লেখ। 8 (খ) অনুচ্ছেদটি যে ধরনের লেখার অন্তর্গত বলে মনে কর সে ধরনের একটি লেখা লিখ তোমার প্রিয় শিক্ষক বিষয়।

 

১৮। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য একটার পর একটা শব্দ বসিয়ে বাক্য তৈরি করে। মানুষ যখন কথা বলে তখন সেভাবে খেয়াল করে না যে বাক্যের মধ্যে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয় ব্যাকরণিকভাবে সেগুলোর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। শব্দের এরূপ প্রকারভেদ বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।

(ক) উদ্দীপকে ব্যাকরণিকভাবে শব্দের বিভিন্ন প্রকার বলতে কত প্রকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা লেখ। 8

(খ) প্রত্যেক প্রকার শব্দের একটা করে উদাহরণ দিয়ে চিহ্নিত করে দেখাও। ৪

  নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

১৯। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

বাক্যে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় একই শ্রেণির শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়। যা বাক্যের অর্থের প্রাঞ্জলতা তৈরি করে। বাক্যে ব্যবহৃত এই একই ধরনের শব্দগুচ্ছের প্রকারভেদও লক্ষ করা যায়।

(ক) অনুচ্ছেদে একই শ্রেণির যে শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে সেই শব্দগুচ্ছকে মূলত কী বলে? উক্ত শব্দচ্ছের প্রকারভেদ উদাহরণসহ লেখ। ৪

(খ) পাঁচটি বাক্য লিখে বিভিন্ন শ্রেণির শব্দগুচ্ছের প্রয়োগ দেখাও।

 

২০। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

রাকিব হাসান তার শ্রেণিকক্ষে অভিধানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় বলেন, শিশুপাঠ্য বইয়ের বর্ণানুক্রমের সাথে অভিধানের বর্ণানুক্রমের তফাত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিধানে শব্দের ভুক্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।

(ক) অনুচ্ছেদের রাকিব হাসানের সাথে তুমিও কি একমত? অভিধান বর্ণানুক্রম তুলে ধর। 8

(খ) নিচের শব্দগুলোর ভুক্তি তৈরি কর-

আড়ষ্ট, ইতস্তত, কেরোসিন, চতুষ্পদ, জীবাশ্ম।

 নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই ডাউনলোডের জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

২১। নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।

বিবরণমূলক লেখায় কোনো ব্যক্তি, বস্তু বিষয়, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদির বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা দেওয়া হয়। এই ধরনের লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সবাইকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করানো এবং স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। অন্যদিকে বিশ্লেষণমূলক রচনায় সাধারণত বিবরণ ও তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মতামত প্রকাশ করা হয় এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। (ক) বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্যগুলো অনুচ্ছেদের আলোকে উপস্থাপন কর। 8

(খ) অনুচ্ছেদের আলোকে বিশ্লেষণমূলক রচনার বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ কর। ৪

 

২২। নিচের চিত্রটি দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও।


 

(ক) ছবির পাঠক কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করছে? এই মাধ্যমটি সম্পর্কে তুমি কী জান? 8

(খ) উক্ত মাধ্যমে যোগাযোগের সঙ্গে অন্য মাধ্যমের যোগাযোগের পার্থক্য তুলে ধর। এই মাধ্যমের কোনো দুর্বল দিক কি তুমি খুঁজে পাও? 8

 

উত্তরপত্র

বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর :

(১) (ঘ) ইদ্রিস মিয়া;

(২) (গ) . মিলিটারি দেখেছে ও iii. ছয়টার মধ্যে বাড়ি পৌছাতে হবে;

(৩) (খ) বিবৃত;

(৪) (গ) ২০০টি;

(৫) (ঘ) i. বিশেষণ, ii. বিশেষ্য ও iii. ক্রিয়াবিশেষণ;

(৬) (গ) তিনটি;

(৭) (খ) রক্তকরবী;

(৮) (গ) অলিখিত উপাখ্যান;

(৯) (গ) নির্বাচিত প্রবন্ধ;

(১০) (ঘ) উপেন;

(১১) (ঘ) নড়াইলে;

(১২) (গ) ডেমাস্কাস;

(১৩) (গ) ভ্রমণকাহিনি;

(১৪) (গ) বোরো ধান;

(১৫) (ক) মূকাভিনয়।

 

এককথায় উত্তর:

(১৬) তিনটি;

(১৭) বদিউল আলম;

(১৮) ই, এ, উ, ও;

(১৯) উপেনের;

(২০) 'জুতো';

(২১) আলেফের মা;

(২২) ১৮২০ সালে;

(২৩) ন্যায়পরায়ণ;

(২৪) প্রায়োগিক লেখা;

(২৫) ব্যক্তির ইচ্ছা ও মানসিকতার।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

 

প্রশ্ন ১। "সবকিছু আগে থেকে ঠিকঠাক করা। মাঝখান থেকে হুট করে কিছু বদলানো যাবে না।” – বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

 

উত্তর: "সবকিছু আগে থেকেই ঠিকঠাক করা। মাঝখান থেকে হুট করে কিছু বদলানো যাবে না।"- প্রদত্ত কথাটি হুমায়ূন আহমেদের 'আগুনের পরশমণি' সাহিত্য-নমুনা থেকে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম মতিন সাহেবের বাড়িতে কিছুদিন থাকতে চাইলে তার স্ত্রী সুরমা বদিউলকে পরদিন সকালে এখান থেকে চলে যেতে বলেন। সুরমার এই কথার জবাবে বদিউল জানায় তার সঙ্গে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা এই বাড়িতে যোগাযোগ করবে। যা আগে থেকে ঠিক করা আছে। তাই হঠাৎ করে এই বাড়ি থেকে চলে গেলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। সেইজন্য বদিউল প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

 

প্রশ্ন ২। 'উ' ধ্বনির বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: 'উ' স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে-

১। জিভ উঁচু হয়;

২। জিভ পিছনের দিকে উঁচু হয়;

৩। ঠোঁট গোল হয়;

৪। ঠোঁট অল্প খোলে।

 

প্রশ্ন ৩। 'ফেরা' গল্পের লেখক সম্পর্কে লেখ।

 

উত্তর: 'ফেরা' গল্পের লেখক হাসান আজিজুল হক। তিনি ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'জীবন ঘষে আগুন', 'আগুন পাখি' ইত্যাদি।

 

প্রশ্ন ৪। সাধু রীতি ও প্রমিত রীতির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

উত্তর: সাধুরীতি ও প্রমিত রীতির মধ্যে তিনটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-

 

সাধুরীতি

প্রমিত রীতি

১. এটি লেখার ভাষা।

১. এটি লেখা ও বলার ভাষা।

২. এটি গুরুগম্ভীর।

২. এটি সহজ-সরল।

৩. এর সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ দীর্ঘ হয়।

৩. এর সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ দীর্ঘ হয় না।

 

প্রশ্ন ৫। সংবাদ প্রতিবেদন কী?

উত্তর: যেকোনো সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য যে প্রতিবেদন লেখা হয়ে থাকে, সেটিকেই সংবাদ প্রতিবেদন বলা হয়। এ ধরনের প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য যেকোনো বিষয় বা সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে পাঠককে অবগত করা।

 

প্রশ্ন ৬. লেখক মুহম্মদ আবদুল হাই ইংরেজ জাতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন? বর্ণনা কর।

ইংরেজ জাতিকে লেখক বড্ড কষ্ট সহিষ্ণু ও সংগ্রামশীল হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইংল্যান্ডের প্রকৃতি খুবই রুদ্র এবং কঠোর। এই প্রতিকূল পরিবেশে তারা সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তারা সুযোগ পেলেই হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। তারা কঠোর পরিশ্রমী।

 

প্রশ্ন ৭। উত্তর: ছেলেবেলা নিয়ে মানুষের অনেক ধরনের স্মৃতি থাকে। সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের অতীত কাহিনি ভেসে ওঠে চোখের সামনে। 'আত্মস্মৃতি' রচনায় লেখকের ছেলেবেলার জীবন, সমাজ ও পরিবেশ উঠে এসেছে তাঁর স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়ে।

 

প্রশ্ন ৮। - উত্তর: বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা। এটির প্রকাশ ক্ষমতা অসাধারণ। -উনিশ শতক থেকে বাংলা ভাষার এই পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়েছে। - আন্তর্জাতিক প্রয়োজন ছাড়া বাংলা ভাষা সব ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশেই বাংলা ভাষার অপরিসীম সম্ভাবনা রয়েছে।

 

প্রশ্ন ৯। 'কিশলয়ের জন্ম মৃত্যু' রচনার বক্তব্যবিষয় কী?

উত্তর : পৃথিবীতে কোনো প্রাণের সূচনা হলে তার সমাপ্তিও হয়। তবে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যায় না। বরং সেখান থেকেই নতুনের সূচনা হয়। এই বিষয়টি কিশলয় নামক একটি পাতার জন্ম- মৃত্যু দিয়ে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

প্রশ্ন ১০। 'সাহিত্য-জগৎ' কবিতার বক্তব্যবিষয় লেখ।

উত্তর: জীবন থেকে সাহিত্যের জন্ম হয়। মানবজীবনের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পৃক্ততা থাকলেও বিশেষ পার্থক্য হলো- সাহিত্য জীবনের মতো অস্থির, অপূর্ণাঙ্গ ও সতত পরিবর্তনশীল নয়। বরং সতত পরিবর্তনশীল জীবনের বুকে সেটি যেন এক অঞ্চল স্বপ্ন, তা যত অল্পক্ষণের জন্যই হোক। সাহিত্যের এই স্বতন্ত্র জগৎ সম্পর্কে 'সাহিত্য জগৎ' প্রবন্ধে লেখক আলোচনা করেছেন।

 

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর (দৃশ্যপটবিহীন)

 

প্রশ্ন ১১। যোগাযোগের মাধ্যম বলতে কী বোঝায়? আলোচনা কর।

উত্তর : 'যোগাযোগের মাধ্যম' বলতে যোগাযোগ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করা হয়, সেগুলোকেই বোঝায়। যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো বিভিন্ন ধরনের। যেমন-

ক. প্রত্যক্ষ মাধ্যম: প্রত্যক্ষভাবে গলার স্বর, কথার সুর, ইশারা, অঙ্গভঙ্গি, তাকানোর ধরন প্রভৃতি যোগাযোগের প্রত্যক্ষ মাধ্যম।

খ. লিখিত মাধ্যম: চিঠিপত্র, সাহিত্য, নোটিশ, বিজ্ঞাপন, পোস্টার, প্রতিবেদন, পত্রপত্রিকা প্রভৃতি যোগাযোগের লিখিত মাধ্যম।

গ. যান্ত্রিক মাধ্যম: এসএমএস, ই-মেইল, অনলাইন মিটিং, অডিও- ভিডিও কল, সিনেমা প্রভৃতি যোগাযোগের যান্ত্রিক মাধ্যম।

 

প্রশ্ন১২। "তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে”- ব্যাখ্যা কর।

 

উত্তর: জমিদারের কোপানলে সর্বহারা উপেন মিথ্যা অপরাধে চোর অপবাদে দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রশ্নোক্ত কথাগুলো বলে।

উপেন দরিদ্র কৃষক। অভাব-অনটন আর দেনার দায়ে সব জমি হারিয়ে বাকি ছিল কেবল তার দুই বিঘা জমি। এটাও জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে নিজের করে নেন। ভিটেমাটি হারিয়ে উপেন পথে পথে ঘোরে। একদিন নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে এসে মিথ্যা দেনার খতে হারানো ভিটেবাড়ির প্রাচীরের পাশে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত আমগাছের নিচে এসে বসে। এমন সময় দুটি পাকা আম তার কোলের কাছে এসে পড়লে সে এগুলোকে জননীর স্নেহের দান মনে করে গ্রহণ করে। এমন সময় মালী এসে তাকে চোর বলে গালাগালি করতে থাকে। পরে জমিদারের কাছে উপেনকে হাজির করা হলে সে আম দুটিকে ভিক্ষা চায়। তখন জমিদার তাকে সাধুবেশী চোর বলে মিথ্যা অপবাদ দেন। যে জমিদার তার সর্বস্ব লুট করেছে, সেই আজ তাকে চোর সাব্যস্ত করছে- উপেনের এই আক্ষেপই প্রশ্নোক্ত চরণে ফুটে উঠেছে।

 

প্রশ্ন ১৩। "সেখানে বেজে ওঠে উপনিবেশবাদী মানুষের কণ্ঠস্বর।”- চরণটি ব্যাখ্যা কর।

 

উত্তর: চরণটি 'অলিখিত উপাখ্যান' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ শাসন চলাকালে বাংলার মানুষ অত্যন্ত অসহায় ছিল। তারা অন্য দেশ থেকে এসে এই দেশকে দখল করার মানসিকতায় লিপ্ত ছিল। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোনো হীন কাজ করতেও তারা দ্বিধা করত না। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল বাংলাদেশের সুন্দরবন। সেখানে একবার হেনরি মোরেলের আদেশে সুন্দরবন কেটে বসতি স্থাপন ও আবাদ করার কাজ চলছিল। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পশুপাখির নিরাপদ আলয় তারা ধ্বংস করছিল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। সুন্দরবনের বৈচিত্র্যপূর্ণ যে প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল সেখানেও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসকরা দৌরাত্ম্য চালিয়েছে।

 

প্রশ্ন ১৪। বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্য লেখ।

 

উত্তর: বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

১। বিবরণমূলক লেখা সাবলীল, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হয়।

২। বিবরণমূলক লেখার ভাষা প্রাঞ্জল হতে হয়।

৩। এ ধরনের লেখায় কোনো ব্যক্তি, বস্তু, বিষয়, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদির বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা থাকে।

৪। এ ধরনের লেখায় স্পষ্ট বক্তব্য বা বর্ণনা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

৫। এ ধরনের লেখায় লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয় এবং তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।

 

প্রশ্ন ১৫।  শব্দালংকার কাকে বলে? আলোচনা কর।

 

উত্তর : অর্থবহ ধ্বনিসমষ্টির নাম শব্দ। যে অলংকার ধ্বনির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শ্রুতি সৌকর্য-বিধায়ক, তাকেই বলা হয় শব্দালংকার। এই শব্দালংকার একান্তভাবেই শব্দের ধ্বনি সৌন্দর্যের উপর নির্ভরশীল। একারণে শব্দের পরিবর্তনে ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে বলে শব্দালংকারে শব্দের পরিবর্তন করা যায় না। কারণ শব্দের পরিবর্তনে অন্য ধ্বনির উদ্ভবে অলংকার বিনষ্ট হয়, যেমন- 'বাঘের বিক্রম সম মাঘের হিমানী'- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এখানে বাঘের ও মাঘের শব্দ দুটিতে একই রকম ধ্বনি সৃষ্টি হওয়ায় এটি শ্রুতি সুখকর হয়ে উঠেছে। সেটাই অলংকার। মাঘের পরিবর্তে শীতের শব্দ প্রয়োগে শ্রুতি-সৌন্দর্য থাকবে না।- অলংকারও থাকবে না। অর্থালংকারের পরিবর্তন হতে পারে, তবে শব্দালংকারের পরিবর্তন হয় না।

  নবম শ্রেণির বাংলা লেকচার গাইডটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন 

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর (দৃশ্যপট নির্ভর) 

১৬। 

ক) অনুচ্ছেদে স্বরধ্বনির কথা বলা হয়েছে। বাংলা ভাষায় সাতটি স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়। যথা- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।

 

খ) অনুচ্ছেদে নির্দেশিত ধ্বনি হলো স্বরধ্বনি। দুইটি স্বরধ্বনির বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো-

 

'ও'- ধ্বনির বৈশিষ্ট্য:

১. এটি মধ্য স্বরধ্বনি।

২. এটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

৩. এটি গোলাকৃত স্বরধ্বনি।

৪. এটি সংবৃত স্বরধ্বনি।

 

'অ'- ধ্বনির বৈশিষ্ট্য

১. এটি মধ্য স্বরধ্বনি।

২. এটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

৩. এটি গোলাকৃত স্বরধ্বনি।

৪. এটি বিবৃত স্বরধ্বনি।


 নবম শ্রেণির বাংলা লেকচার গাইডটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন  

১৭। 

ক) অনুচ্ছেদের লেখাটিকে আমি বিবরণমূলক লেখা হিসেবে গণ্য করব। এ ধনের লেখা সম্পর্কে আমি যা জানি তা নিচে বিবৃত করলাম :

বিবরণমূলক লেখা: কোনো ব্যক্তি, বস্তু, বিষয়, স্থান, প্রাণী পরিস্থিতি, ঘটনা, অনুভূতি, ভ্রমণ, অতীত স্মৃতি, ছবি বা কোনো বিষয়ের বিবরণ দেওয়া হয় যে রচনায়, তাকে বিবরণমূলক লেখা বলে। এ ধরনের লেখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করানো ও সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া। এ ধরনের লেখায় সাবলীল বর্ণনা থাকে বেশি। বিবরণমূলক লেখায় লেখকের জীবনদর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময়ে পাঠককে প্রভাবিত করে। নিবিড় পাঠ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাঠকও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করতে পারেন। আসলে এ ধরনের রচনায় লেখক নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠককে একটি নির্দিষ্ট বিষয় জিনিস, ব্যক্তি বা স্থানকে অনুভব করান এমনভাবে যেন পাঠক বিষয়টি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে।

 

খ)  অনুচ্ছেদটি বিবরণমূলক লেখার অন্তর্গত বলে আমি মনে করি। নিম্নে 'আমার প্রিয় শিক্ষক' বিষয়ে একটি বিরবণমূলক লেখা উপস্থাপন করলাম :

 

আমার প্রিয় শিক্ষক

 

শিক্ষকরা সর্বদাই পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আমাদের স্বভাব-চরিত্র গঠনে, শিক্ষার অগ্রগতিতে তাঁদের ভূমিকা অসামান্য। আমার ছোট জীবনে দেখা শিক্ষকরা প্রায় সবাই বৈচিত্র্যে ভিন্নতর, কিন্তু আকর্ষণে অনন্য। তাই তাঁরা সবাই আমার প্রিয়। তবে সব শিক্ষকের মধ্য থেকে খুব সহজেই আমি একজনকে পৃথক করতে পারি। তাঁর দৃঢ় বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের কারণে, তাঁর পড়ানোর ধরনে আমি মুগ্ধ। তিনি আমার সব শিক্ষকের মধ্যে ভীষণ প্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি হলেন সিরাজগঞ্জ জেলায় কাজিপুর থানার 'বাংলাবাজার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়'-এর ইরেজি. শিক্ষক। তাঁর নাম মুহাম্মদ কোরবান আলী। তিনি এত চমৎকার করে পড়ান যে আমরা ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠলাম। অজপাড়া গাঁয়ের স্কুল হিসেবে অনেক শিক্ষার্থীরই ইংরেজিভীতি ছিল ভীষণ। কিন্তু তাঁর পড়ানোর কৌশলে সবাই সেই ভীতি কাটিয়ে উঠলাম। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ক্লাস নেন। তিনি পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে চমৎকার সব গল্প ও উদাহরণ টেনে আমাদের পাঠ্য আরও সহজ করে তোলেন। জীবনে সৎ মানুষ হওয়ার, ভালো কাজ করার, ভালো রেজাল্ট করার, কোনো অবস্থাতেই হতাশ না হওয়ার বিষয়গুলো গল্পের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি। এলাকার দশজনের মধ্যে একজন বিশেষ মানুষ হিসেবে তিনি পরিচিত। তাঁর অনেক শিক্ষার্থীই দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত এবং সুসভ্য মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

  নবম শ্রেণির বাংলা লেকচার গাইডটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন 

প্রশ্ন- ১৮। 

ক) উদ্দীপকে ব্যাকরণিকভাবে শব্দের বিভিন্ন প্রকার বলতে আট প্রকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যথা-

 

বিশেষ্য: যেসব শব্দ দ্বারা কোনো নাম বোঝায় সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।

 

সর্বনাম : বিশেষ্যের পরিবর্তে যেসব শব্দ ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে সর্বনাম বলে।

 

বিশেষণ: যেসব শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

ক্রিয়া: যে সব শব্দ দ্বারা কোনো কিছু করা বোঝায় সেগুলোকে ক্রিয়া বলে।

ক্রিয়াবিশেষণ : যেসব শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষায়িত করে সেগুলোকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

অনুসর্গ : যেসব শব্দ কোন শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে সেগুলোকে অনুসর্গ বলে।

যোজক: যেসব শব্দ বাক্যের শব্দ বা বাক্যের অংশকে যুক্ত করে সেগুলোকে যোজক বলে।

আবেগ: যেসব শব্দ দিয়ে মনের নানা ভাব বা আবেগ প্রকাশ করা হয় সেগুলোকে আবেগ বলে।

  নবম শ্রেণির বাংলা লেকচার গাইডটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন 

খ) প্রত্যেক প্রকার শব্দের একটা করে উদাহরণ দিয়ে চিহ্নিত করা হলো-

বিশেষ্য: রহিম বল খেলে।

সর্বনাম: সে খুব ভালো ছেলে।

বিশেষণ: লিমা লাল জামা পরেছে।

ক্রিয়া: আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি।

ক্রিয়াবিশেষণ: লোকটি আস্তে কথা বলে।

অনুসর্গ: তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

যোজক: রহিম ও করিম দুই ভাই।

আবেগ: বাহ! কী সুন্দর দিন।

 

১৯। ক) অনুচ্ছেদে একই শ্রেণির যে শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে সেই শব্দুগচ্ছকে মূলত বর্গ বলে। অর্থাৎ বাক্যে ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ বা বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ কয়েক ধরনের হতে পারে:

 নবম শ্রেণির বাংলা লেকচার গাইডটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন 

১. বিশেষ্য বর্গ: একাধিক বিশেষ্য নিয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়। বিশেষ্য শব্দের আগে সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়েও বিশেষ্য বর্গ তৈরি হতে পারে।

যেমন : রহিম ও করিম বৃষ্টিতে খেলছে। মোল্লাবাড়ির কায়সার ভালো একটা চাকরি পেয়েছে।

২. বিশেষণ বর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণ বর্গ।

যেমন: নীল শার্ট পরা ছেলেটি কবিতার বই পড়ছে। আমটা দেখতে ভারি সুন্দর।

৩. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে।

যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো। আমরা তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ালাম।

৪. ক্রিয়া বর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়া বর্গ তৈরি করে।

যেমন: অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে। সে লিখছে আর হাসছে।

 

খ) পাঁচটি বাক্য লিখে বিভিন্ন শ্রেণির শব্দগুচ্ছের প্রয়োগ দেখানো হলো:

ক. শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রী আনন্দভ্রমণে কুয়াকাটা দেখতে গেল।- বিশেষ্য বর্গ

খ. কুয়াকাটা দেখতে ভারি সুন্দর। – বিশেষণ বর্গ

গ. রবিবারে শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রী আনন্দভ্রমণে কুয়াকাটা দেখতে গেল। – ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ

ঘ. ছেলেরা মাঠে দৌড়াতে শুরু করল। – ক্রিয়া বর্গ

ঙ. সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ

 

২০। অনুচ্ছেদের রাকিব হাসান বলেন শিশুপাঠ্য বইয়ের বর্ণানুক্রমের সাথে অভিধানের বর্ণানুক্রমের তফাত রয়েছে। আমিও এই ব্যাপারে তার সাথে একমত। নিচে অভিধানের বর্ণানুক্রম তুলে ধরা হলো-

 

স্বরবর্ণ ও পরাশ্রয়ী বর্ণ

অ আ ই ঈ উ উ ঋ এ ঐ ও ঔংঃ

ব্যঞ্জনবর্ণ

ক খ গ ঘ ঙ

 

চ ছ জ ঝ ঞ

 

ট ঠ ড ড় ঢ ঢ়

 

ণ ত (ৎ) থ দ ধ ন

 

প ফ ব ভ ম

 

য য় র ল শ ষ স হ

 খ. আড়ষ্ট [আড়োটো] বিণ. ১. অসাড়; অবশ। ২. অস্বচ্ছন্দ; সংকুচিত।ইতস্তত [ইতস্ততো] অব্য, ক্রিবিণ. ১. এখানে সেখানে। বি. ২. দ্বিধা; সংকোচ।

কেরোসিন [কেরোসি] বি. ১. খনিজাত এক প্রকার জ্বালানি তেল।

চতুষ্পদ [চোতুষ্পদ্‌] বিণ. ১. চার চরণযুক্ত। ২. পূর্ণাঙ্গ। বি. ৩. চারপেয়ে জন্তু।

জীবাশ্ম (জিবাশশো) বি. ১. যে প্রাণী বা উদ্ভিদ পাথরে পরিণত হয়েছে; প্রস্তুরীভূত প্রাণী বা উদ্ভিদ।

 

২১। ক)  অনুচ্ছেদের আলোকে বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থাপন করা হলো-

১. বিবরণমূলক লেখা সাবলীল, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হতে হয়।

২. বিবরণমূলক লেখার ভাষা প্রাঞ্জল হতে হয়।

৩. এই লেখায় কোনো ব্যক্তি, বস্তু, বিষয়, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদির বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা থাকে।

৪. এই লেখায় ঘটনা বিশ্লেষণের চেয়ে বা লেখার অন্তর্গত অর্থের চেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য বা বর্ণনা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

খ) অনুচ্ছেদের আলোকে বিশ্লেষণমূলক রচনার বৈশিষ্ট্য নিচে উপস্থাপন করা হলো-

 

১. বিশ্লেষণমূলক লেখায় বর্ণনা, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষিত হয়।

২. বিশ্লেষণমূলক লেখার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো তথ্য-উপাত্ত।

৩. তথ্যপূর্ণ বা উপাত্তনির্ভর লেখা বিশ্লেষণের সময় ব্যক্তিগত মতামত পরিহার করতে হয়।

৪. এই লেখায় যুক্তিতর্ক ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়।

 

২২। ক) ছবির পাঠক সাহিত্যমাধ্যম অর্থাৎ লিখিত মাধ্যমে যোগাযোগ করছে।

 

এই মাধ্যমটি সম্পর্কে আমি যা জানি তা নিম্নে উপস্থাপন করলাম:

 

সাহিত্য হলো যোগাযোগের একটি বিশেষ ধরনের মাধ্যম। এটি লিখিত যোগাযোগের অন্তর্গত। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে লেখকের সঙ্গে পাঠকের যোগাযোগ ঘটে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে লেখা ও পড়ার কাজটিই মুখ্য। এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে পাঠককে অবহিত করানো। এই যোগাযোগে লেখক নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাচেতনা ও অভিজ্ঞতা পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। এই যোগাযোগের প্রধান উপকরণ হলো কাগজ ও কলম। লিখিত যোগাযোগের সাহিত্য মাধ্যমটি অত্যন্ত চমৎকার একটি পদ্ধতি। এটার মাধ্যমে মানুষ সুশীল হয়, সুশিক্ষিত হয়, মানুষের মনের প্রসারতা বৃদ্ধি পায়, জ্ঞানের ব্যাপ্তি ঘটে।

 

খ) উক্ত মাধ্যমে যোগাযোগের অর্থাৎ সাহিত্য মাধ্যমের সঙ্গে অন্য মাধ্যমের নানাবিধ পার্থক্য বিদ্যমান।

 

এই মাধ্যমের সঙ্গে অন্যান্য মাধ্যমের প্রধান পার্থক্য হলো- এখানে লেখা ও পড়ার কাজটিই মুখ্য। এখানে কথা বলার কোনো বিষয় নেই। কিন্তু প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রায় সব ক্ষেত্রে আর যান্ত্রিক যোগাযোগের অনেক ক্ষেত্রে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ ও যান্ত্রিক যোগাযোগে কথোপকথন মুখ্য হয়ে ওঠে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। তাছাড়া প্রত্যক্ষ ও যান্ত্রিক মাধ্যমে যোগাযোগে সাধারণত একই সময়ে দুই পক্ষই যোগাযোগ করে; কিন্তু লিখিত সাহিত্য মাধ্যমে একই সময়ে যোগাযোগ হয় না। সাহিত্য মাধ্যমে যোগাযোগে সময় বেশি লাগে। অর্থাৎ অন্য দুটি মাধ্যমে যোগাযোগ দ্রুত ঘটে কিন্তু সাহিত্য মাধ্যমে যোগাযোগ যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। প্রত্যক্ষ মাধ্যমে বাক্সত্যঙ্গ, কান, হাত, আঙুল, চোখ, ইশারা, সংকেত ব্যবহৃত হয়। যান্ত্রিক মাধ্যমে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, রেডিও ইত্যাদির সাহায্যে যোগাযোগ হয়। এই মাধ্যমটি যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম থেকে স্বতন্ত্র। তবে এই মাধ্যমটির একটি সীমাবদ্ধতা আমি খুঁজে পেয়েছি। যারা বিদ্যাহীন কিংবা সাহিত্য পাঠে অনাগ্রহী তাদের ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ মাধ্যমটি অকার্যকর।

 


Watch Full vedio