নাজিয়া আফরিন
ব্যাগটা ভরে নিত্য
স্বামী
বাজার করে আনে,
বড় মাছের মুড়োখানা
দেই যে তাহার পানে।
কোনো কিছু কম পড়লেই
গোষ্ঠী উদ্ধার করি,
পান থেকে চুন খসলে
এক চুলও না ছাড়ি।
বেজায় চটে বললেম সেদিন
আমি যাব বাজারে,
বাজার করা কত্ত মজা
নয়কো মোটে সাজা রে।
ঘুরে ঘুরে এটা ওটার
দাম জিজ্ঞাসা করে,
দামের কথা শুনে আমার
মাথা কেমন ঘোরে।
পছন্দেরই সবজি সেদিন
লাগলো ভীষণ তেতো
সবজির এমন দাম জানলে
কে বাজারে যেতো?
আলু, পটল, কুমড়ো,
পুঁইয়ের
আকাশ ছোয়া দাম
দাম শুনিয়া আমার কেবল
ঝরছে মাথার ঘাম।
বাজারের এই আগুন আমার
মাথায় গেলো চড়ে,
লাউয়ের ডগার দামটা এমন
ক্যামনে গেলো বেড়ে?
লাউ হলেও মেনে নিতাম
ঘাসতো এটা ভাই,
গরুতে খায়, এই জিনিসের
কোনো মূল্য নাই।
সেই জিনিসও বাজার গিয়ে
ক্যামনে হলো দামী?
কোনো উত্তর পাই না
খোঁজে
মাথা চুলকে আমি।
এলার্জিতে ভরা বেগুন
খায় না লোকে সবে,
আজকে তাহার দাম শুনিয়া
সাধ্যি কাহার নিবে?
কচুর লতি, সেটা কি আর
ভদ্রলোকে খায়?
ভদ্রলোকের পক্ষে আজি
কেনা ভীষণ দায়।
মূলার দামটা শুনে আমার
পিলে চমকে যায়,
ছেলেবেলায় শুনছি এটা
গরীব লোকে খায়।
মূলার মূল্য দেখি আজি
ধনীর হাতের নাগালে,
ক'দিন পরে কোনো কিছুই
জুটবে না আর কপালে।
এত দামে স্বামী মোদের
বাজার আনে রোজ,
সেই স্বামীরই মনের খবর
রাখেননি কেউ খোঁজ?
এসব ভেবে শূন্য হাতে
বাজার হতে ফিরি
খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে চলো
সবাই ডায়েট করি।











0 Comments