নাজিয়া আফরিন
কী খবর ভাই সদানন্দ
কেমন আছো বলো,
চায়ের আড্ডায় পাইনি
তোমায় অনেকদিন হলো।
বাড়ির সবে কেমন আছে
কীবা খবর তাদের,
তোমার তো ভাই ভরা সংসার
হাট যেন ঠিক চাঁদের।
দাঁত কেলিয়ে সদানন্দ খুশি মনে কয়,
তা যদিও বেশ বলেছ সুখ
কি সদা সয়?
এই দেখ না কদিন আগে
বেশটি ঘটা করে
ছেলেটাকে বিয়ে দিয়েবউ আনলাম ঘরে।
তাতো জানি, বউটি তোমার
লক্ষ্মী রূপে-গুণে,
এমন লক্ষ্মী আনলে ঘরে
অনেক দেখে শুনে।
সদানন্দের মুখটি এবার
কালো হয়ে আসে,
ছেলে আমার বউয়ের কথায়নিত্য উঠে বসে।
.
সারাদিন অফিস করে বাসন
মাজে রাতে,
খেতে বসলে বউকে সে ভাততুলে দেয় পাতে।
আরো কত ঝিয়ের কাজ করে
চলে নিত্য,
মনে হয় সে যেন ঘরের
একজন ভৃত্য।
একি কথা বলছো সদা কষ্ট
পেলাম বটে,
শেষ বয়সে এসব দেখা ছিলতোমার ঘটে?
কী আর বলি দুঃখের কথা
আরো বলি শোনো,
শালা-শালি, শ্বশুর-শাশুড়ি
আসে ঘনঘন।
ছেলে আমার তাদের তরে
জীবন গেলে খুশি,
এমন যদি জানতাম আগে
দিতাম গলায় ফাঁসি।
আচ্ছা আচ্ছা এবার বলো
মেয়ের কথা তোমার,
এমন বলদ ছেলের কথা শুনতে চাই না আর।
সদানন্দ শুধায় হয়ে আহ্লাদে
আটখানা,
কপালগুণে মেয়ে আমারপেয়েছে জামাইখানা।
.
বলব কী আর জামাইর কথা
কী যে শান্ত ছেলে,
সাত জন্মের পুণ্যি থাকলে
এমন জামাই মিলে।
মেয়ে আমার শুয়ে বসে
দিব্যি আয়েশ করে,
রান্নাবান্না করে জামাইঅফিস থেকে ফিরে।
ঘরের সকল কাজই জামাই
করে নিপুন হাতে,
সকল দিকে খেয়াল জামাইর
বউ খুশি হয় যাতে।
মাইনে পেয়েই বউয়ের হাতে
সকল টাকা দিয়ে
শ্বশুর বাড়ি চলে আসে
নানান কিছু নিয়ে।
শ্বশুর বলতে অজ্ঞান
সে শাশুড়ি তার মা
বাহবা সদা কী শুনালে
প্রাণটা গেলো ভরে,
আশীর্বাদি সারা জীবন
চলুক এমনি করে।
আরো বলছি শুনুন দাদা
কী যে পাগল ছেলে
মাস খানেকে ছাড়তে চায়না আমায় কাছে পেলে।
.
বলছিলে না চায়ের আড্ডায়
ছিলাম না এতকাল,
তিন মাস ধরে তার কাছেতে
ফিরলাম গতকাল।
আচ্ছা সদা, একটি কথা
হয়নি জানা আমার,
মা-বাবা কি বেঁচে নেই
পরম প্রিয় জামাইর?
না না দাদা তা কেন দিব্যি
সবাই আছেন
তবে কিনা জামাই আমার
আলাদা ফ্ল্যাটে থাকেন।
মেয়ে আমার ছোট থেকেই চরম বিলাসি
কাজ-কর্ম অভ্যাসে নেই
একটু আয়েশি।
তাইতো জামাই বিয়ের পরে
বাবা-মাকে ছেড়ে
বউকে নিয়ে চলে এলো তাদের
থেকে দূরে।
এমন জামাই পেয়ে আমার
মনটা গেলো ভরে,
ছেলের কাণ্ডে কবেই নাহয়
যেতাম আমি মরে।
তুমিই বলো এমন ছেলে হয় না যেন কারো
এমন হবে বুঝলে তাদের
আতুর ঘরেই মারো।
.jpg)










0 Comments